
এস,এম মোস্তাফিজুর রহমান
এক মুহূর্তের বজ্রপাত থামিয়ে দিল শওকাত হোসেনের জীবনের সব স্বপ্ন। জুমার নামাজ শেষে দুপুরের খাবার খেয়ে প্রতিদিনের মতো নৌকার কাজে ফিরেছিলেন তিনি। স্ত্রী-সন্তানদের সঙ্গে ফোনে কথাও বলেছিলেন। কে জানত,সেটিই হবে প্রিয় মানুষগুলোর সঙ্গে তার শেষ কথা! কিছুক্ষণ পরই আকস্মিক বজ্রপাতে প্রাণ হারান আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়নের শ্রীপুর গ্রামের মৃত আব্দুস সামাদ গাজীর ছেলে মো.শওকাত হোসেন। তার মৃত্যুতে এখন পরিবারজুড়ে শুধু আহাজারি আর আর্তনাদ।
শুক্রবার(২ অক্টোবর) দুপুরে নৌকার কাজে থাকা অবস্থায় বজ্রপাতে শওকাতের মৃত্যু হয়। মুহূর্তের মধ্যেই তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে আত্নীয়স্বজন,প্রতিবেশী ও এলাকাবাসীর মধ্যে নেমে আসে শোকের ছায়া।
শওকাত পেশায় নৌকার মিস্ত্রি হলেও স্থানীয়দের কাছে তিনি ছিলেন সৎ,সহজ-সরল ও ভালো মনের মানুষ হিসেবে পরিচিত। নিয়মিত মসজিদে জামায়াতে নামাজ আদায় করতেন। অভাব-অনটনের সংসারেও অসুস্থ স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে ছিল তার নানা স্বপ্ন। কাজের পাশাপাশি অসুস্থ স্ত্রীকে সেবা-যত্ন করতেন এবং সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়ার চেষ্টা করতেন।
উপাধ্যক্ষ মাওঃ অহিদুজ্জামান জানান,একজন যুবক হিসেবে শওকাত কোনো অন্যায় বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন না। বরং কঠিন সময়ে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতেন। দুঃসময়ে ইসলামী আন্দোলনের কর্মী-সমর্থকদের কাছেও তিনি ছিলেন আশ্রয় ও আস্থার জায়গা। শওকাতের পরিবারে শোক যেন নতুন নয়। মাত্র এক বছর আগে কঠিন রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান তার একমাত্র ছোট ভাই। সেই শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই এবার পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষটিকেও হারাতে হলো।
জানাজা শেষে শওকাতকে যখন চিরবিদায় জানানো হয়,তখন কান্নায় ভেঙে পড়েন তার স্ত্রী,সন্তান ও স্বজনরা। অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী,পুত্র ও চার শিশু কন্যার কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পুরো পরিবেশ। উপস্থিত মানুষের চোখও অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়ে।
স্বজনদের বুকফাটা আহাজারিতে বারবার উচ্চারিত হচ্ছিল—‘এখন আমাদের দেখবে কে? কে নেবে এই পরিবারের দায়িত্ব?’
শওকাতের মৃত্যুর পর অসুস্থ স্ত্রী,অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী ও শিশু সন্তানদের নিয়ে পরিবারটি পড়েছে চরম অনিশ্চয়তায়। সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে তাদের সামনে এখন অন্ধকার ভবিষ্যৎ।
এ অবস্থায় স্থানীয়রা সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান মানুষের প্রতি অসহায় পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের বিশ্বাস,মানুষের সহমর্মিতা এবং মহান আল্লাহর রহমতই শওকাতের অসহায় পরিবারটির বেঁচে থাকার বড় অবলম্বন হতে পারে।##
আপনার মতামত লিখুন :