
কলারোয়া প্রতিদিন নিউজ ডেস্ক
তিনটি হত্যা মামলায় কারাগারে থাকা অবস্থায় সাতক্ষীরা জজকোর্টের সাবেক পিপি অ্যাড আব্দুল লতিফ মারা গেছেন। সোমবার রাত ৪টার দিকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
তিনি সদর উপজেলার কামার বায়সা গ্রামের মৃত মুনসুর সরদারের ছেলে। তিনি সাতক্ষীরা জজ কোর্টের সাবেক পিপি, নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামীলীগের জেলা কমিটির উপদেষ্টা এবং বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ছিলেন।
গত ২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর খুলনার বায়রা এলাকা থেকে ছেলে রাসেলসহ তাদের কে আটক করে পুলিশ। এরপর থেকে তিনটি হত্যা মামলায় তিনি কারাগারে অন্তরীন ছিলেন।
সাতক্ষীরা জেলা কারাগারের জেলার দুলাল কর্মকার জানান, সোমবার রাত ৩টার দিকে কারাগারের মধ্যেই তিনি অসুস্থ্য হয়ে পড়েন। দ্রুত তাকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করার পর রাত ৪টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
আব্দুল লতিফের মেয়ে শাম্মি জানান, ২০২৫ সালে খুলনার বয়রা এলাকা থেকে তার পিতা ও ভাই রাসেল কে আটক করে পুলিশ।
সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা: আব্দুর রহমান জানান, রাত ৩.৩৫ মিনিটে জেল কর্তৃপক্ষ বুকে ব্যাথ্যা নিয়ে ভর্তি করে। রাত ৪টায় তিনি মারা যান।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান জানান, একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে সুরতহাল রিপোর্ট শেষে ময়না তদন্তের পরে তার লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
স্থানীয় ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সাতক্ষীরা-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মীর মোস্তাক আহম্মেদ রবির সুপারিশে আব্দুল লতিফ জেলা জজ আদালতের পিপি নিযুক্ত হন। এই সময়ে আদালতপাড়া নিয়ন্ত্রণ, ভারতীয় গরুর খাটাল ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন খাত থেকে তিনি বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের মালিক হন বলে অভিযোগ ওঠে।
গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর সাবেক এই পিপির বিরুদ্ধে আটটি হত্যা ও নাশকতা মামলা এবং তাঁর ছেলে রাসেলের বিরুদ্ধে তিনটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলার পর থেকেই তাঁরা গ্রেপ্তার এড়াতে খুলনায় আত্মগোপনে ছিলেন।
পারিবারিকভাবে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার কামারবায়সা গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল লতিফ দীর্ঘ দিন ধরে শহরের রসুলপুর এলাকায় বসবাস করতেন। সেখানে তাঁর একটি পাঁচতলা ভবন রয়েছে। আইনগত জটিলতা এড়াতে তিনি উকিল কমিশনের মাধ্যমে ভবনের কয়েকটি ফ্ল্যাট বিক্রি করেন।
আপনার মতামত লিখুন :