
শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি:
সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর-কালিগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ও মুক্তিযোদ্ধা গাজী নজরুল ইসলামকে জড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি কথিত ‘আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও’ নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে প্রাথমিক অনুসন্ধানে এসব ছবি ও ভিডিওর সঙ্গে কোনো বাস্তব ঘটনার নির্ভরযোগ্য মিল পাওয়া যায়নি।
ছড়িয়ে পড়া কনটেন্ট বিশ্লেষণ করে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) প্রযুক্তি ব্যবহার বা ডিজিটাল কারসাজির সম্ভাবনা রয়েছে। ভিডিওর বিভিন্ন অংশে দৃশ্য, আলো-ছায়া, পরিবেশ, অঙ্গভঙ্গি ও অন্যান্য উপাদানে অসামঞ্জস্যতা লক্ষ্য করা গেছে বলে দাবি করেছেন তারা।
অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত ছবি ও ভিডিওতে যে ঘটনার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, বাস্তবে এমন কোনো ঘটনার নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তৈরি বা বিকৃত কনটেন্ট ব্যবহার করে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করা হতে পারে।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে AI-নির্ভর ইমেজ জেনারেশন ও ডিপফেক প্রযুক্তির মাধ্যমে কোনো ব্যক্তির ছবি বা পরিচয় ব্যবহার করে বাস্তবসম্মত ভুয়া ছবি ও ভিডিও তৈরি করা সম্ভব। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কোনো ছবি বা ভিডিও যাচাই ছাড়া বিশ্বাস করা ঝুঁকিপূর্ণ।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব কনটেন্টের মূল উৎস, তৈরির সঙ্গে কারা জড়িত এবং কী উদ্দেশ্যে তা প্রচার করা হয়েছে—তা তদন্তের মাধ্যমে বের করা জরুরি। একই সঙ্গে কোনো ব্যক্তির সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয় এমন ভুয়া বা বিকৃত ছবি-ভিডিও প্রচার আইনগতভাবেও গুরুতর অপরাধ।
তবে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও ছবিগুলো AI-নির্ভর কি না, তা নিশ্চিত করতে মূল ফাইলের উৎস, মেটাডেটা পরীক্ষা, প্রযুক্তিগত ফরেনসিক বিশ্লেষণ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত প্রয়োজন বলে মত দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
আপনার মতামত লিখুন :