
কলারোয়া প্রতিদিন নিউজ ডেস্ক
ঠিক দুই বছর আগে এই দিনে, তুমুল গণ-অভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যান পতিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অবসান ঘটে দুর্নীতি, দমন-পীড়ন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের দীর্ঘ দেড় দশকের স্বৈরশাসনের। তবে, এর আগে রক্তে রঞ্জিত হয় রাজপথ। প্রাণ হারান সহস্রাধিক মানুষ। আহত হন নারী-শিশুসহ কয়েক হাজার।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট কখন কী হয়েছিল:
সকাল ৭টা
দিনের শুরুটা চাপা উত্তেজনায়। রাজধানীর প্রতিটি মোড়ে বেরিকেড, সতর্ক অবস্থানে সেনাবাহিনীসহ নানা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। রাজধানীজুড়ে আতঙ্ক।
সকাল ৮টা
“মার্চ ফর ঢাকা” কর্মসূচি ঠেকাতে রাজধানীর সব প্রবেশপথ বন্ধ। তারপরও ধীরে ধীরে আন্দোলনরত জনতা বাড়তে থাকে অলিগলিতে। কর্মসূচির কেন্দ্রবিন্দু শহীদ মিনারে অবস্থান নেয়ার চেষ্টা করে কিছু ছাত্র-জনতার। বাধা দেয় আইনশৃঙ্খলাবাহিনী।
সকাল ৯টা
সকাল ৯টার পরই যাত্রাবাড়ী মোড়ে জনস্রোত হয়ে ওঠে অপ্রতিরোধ্য। প্রতিটি গলির মুখে বিক্ষুব্ধ জনতা। ফ্লাইওভারের নিচে লাখো জনতার মিছিল। দিনভর ছাত্র-জনতার সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ।
সকাল ১০টা
পুরান ঢাকা থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের দিকে এগিয়ে আসার চেষ্টা ছাত্র-জনতার।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তল্লাশি, ব্যাপক ধরপাকড়। কারফিউ ভেঙে রাজু ভাস্কর্যের সামনে জড়ো হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু সাহসী শিক্ষক। তবে পুলিশি হস্তক্ষেপে বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি তারা।
বেলা ১১টা
রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে বাড়ে সেনা অবস্থান। রামপুরা-উত্তরায় বাড়তে থাকতে জনস্রোত। যাত্রাবাড়িতে এরই মধ্যে জনবিস্ফোরণ। ঢাকা-চট্টগ্রাম সড়ক দখলে নেয় মুক্তিকামী জনতা। রাজধানীর প্রবেশমুখগুলোতে ছাত্র-জনতার অবস্থান পরিণত হয় জনস্রোতে, গন্তব্য গণভবন।
উত্তরায় সেনাবাহিনী সরে গেলে বেরিকেড পেরিয়ে গণভবনের দিকে লাখো জনতার স্রোত। হাতে পতাকা, মুখে স্লোগান, চোখে অদম্য প্রত্যয়। বয়স, পেশা, পরিচয় ভুলে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এগিয়ে চলে নারী-পুরুষ, শ্রমিক-ছাত্র-শিক্ষক।
দুপুর ১২টা
তখনও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও শাহবাগ এলাকায় মুহুর্মুহু গুলির শব্দ। ঢাকা মেডিকেল থেকে চানখারপুল এলাকায় আন্দোলন দমনে মরিয়া পুলিশ। একের পর এক লুটিয়ে পড়ে তাজা প্রাণ। শহীদ হন আনাসসহ ৬ হার না মানা জুলাইযোদ্ধা।
দুপুর ১টা
সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে রামপুরায়। সেনা সদস্যদের বাঁধার মুখেই জড়ো হয়ে থাকে ছাত্র-জনতা। কিছুক্ষণ পর সেনাবাহিনী বাধা সরিয়ে নিলে রামপুরা থেকেও উত্তাল জনস্রোত এগুতে থাকে গণভবনের দিকে।
দুপুর ২টা
গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে গণ-অভ্যুত্থানের শেখ হাসিনার পতন হয়েছে। হেলিকপ্টারে করে পালিয়ে গেছেন ভারতে। ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই সেই গুঞ্জন নিশ্চিত হয়। চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে বিজয়ের উল্লাস।
বিকেল ৩টা
সর্বস্তরের মানুষ নেমে আসে রাস্তায়। হাতে বিজয়ের চিহ্ন, মাথায় জাতীয় পতাকা, ছাত্র-জনতার বিজয় স্লোগানে মুখর রাজপথ।
বিকেল ৪টা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি, শহীদ মিনার, শাহবাগ, সংসদ ভবন, সব এলাকাই পরিণত হয় জনসমুদ্রে। বিজয় উল্লাস চলে রাত অবধি।
সংসদ ভবন, গণভবন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় নিয়ন্ত্রণ নেয় আম-জনতা। তাদের নানা কর্মকাণ্ডে বহিঃপ্রকাশ ঘটে পুঞ্জীভূত ক্ষোভের।
আপনার মতামত লিখুন :