ব্রেকিং নিউজ :

মামলা করার পরই নথি সরানো, ৪০ কোটি টাকা ফ্রিজ—এক বছর পর ফাঁস দায়মুক্তির চিঠি


প্রকাশের সময় : অগাস্ট ১৩, ২০২৬, ১২:৪০ অপরাহ্ন | ২৯
মামলা করার পরই নথি সরানো, ৪০ কোটি টাকা ফ্রিজ—এক বছর পর ফাঁস দায়মুক্তির চিঠি

কলারোয়া প্রতিদিন নিউজ ডেস্ক 

খাঁন মীজানুল ইসলামের তদারকিতে দায়ের হওয়া মামলা থেকে নথি সরানোর পরও আর্থিক অনুসন্ধান অব্যাহত; তদন্তাধীন মামলায় দায়মুক্তি ঘিরে গুরুতর প্রশ্ন

কলারোয়ার সন্তান ড. খাঁন মো. মীজানুল ইসলাম, পরিচালক (স্পেশাল তদন্ত), দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), প্রধান কার্যালয়ে দায়িত্ব পালনকালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা জেনারেল তারিক সিদ্দিকীসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে চারটি মামলা দায়ের করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট তথ্য থেকে জানা গেছে। অনুসন্ধানে আলোচিত নথিটি ওই মামলাগুলোর একটি।

মামলা দায়েরের আগে সেটি না করার জন্য অনুরোধ ও চাপ ছিল—এমন তথ্যও সংশ্লিষ্ট সূত্রে পাওয়া গেছে। কিন্তু মামলা দায়েরের পরপরই ৩ মার্চ ২০২৫ তারিখে ড. খাঁন মো. মীজানুল ইসলামের কাছ থেকে মামলাসংক্রান্ত নথি মানিলন্ডারিং শাখায় নিয়ে নেওয়া হয়। অর্থাৎ মামলা করার পর নথিটি তার নেতৃত্বাধীন স্পেশাল তদন্ত শাখার নিয়ন্ত্রণে আর রাখা হয়নি।
কিন্তু এখানেই ঘটনাটি থেমে থাকেনি। নথি সরিয়ে নেওয়ার পরও অনুসন্ধানের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপে দুদকের বাইরের একটি সংস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিপুল অঙ্কের গোপন এফডিআরের তথ্য সামনে আসে। অনুসন্ধানে একটি ব্যাংকের চারটি হিসাবে ১০ কোটি টাকা করে মোট ৪০ কোটি টাকা শনাক্ত করা হয় এবং আদালতের মাধ্যমে ওই অর্থ ফ্রিজ করা হয় বলে তথ্য পাওয়া গেছে।

ঘটনাপ্রবাহের এই অংশটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, একদিকে মামলা দায়েরের পর ড. খাঁন মীজানুল ইসলামের কাছ থেকে নথি সরিয়ে নেওয়া হলো; অন্যদিকে তার তদারকিতে শুরু হওয়া অনুসন্ধানের ধারাবাহিকতায় বড় অঙ্কের অর্থের সন্ধান ও তা ফ্রিজ করার প্রক্রিয়া এগিয়ে যায়।

এরপর ড. খাঁন মীজানুল ইসলামের দায়িত্ব ও তদন্ত-সংশ্লিষ্ট ভূমিকা নিয়েও পরিবর্তন আসে। ১৭ আগষ্ট ২০২৫ তারিখে তার হৃদযন্ত্রের অস্ত্রোপচার হয়। নথি সরিয়ে নেওয়া, পরবর্তী আর্থিক অনুসন্ধান এবং এরপর তদন্ত থেকে তার সরে যাওয়ার ঘটনাগুলোর সময়কাল পাশাপাশি রাখলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে—নথি ও তদন্ত তার শাখা থেকে সরিয়ে নেওয়ার পরও কেন তার ভূমিকা ও অর্থ অপবাদের বিষয়টি সামনে এল?
বিশেষ করে, তাকে ২ লাখ ৪ হাজার টাকা দেওয়ার তথ্যটি নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। কারণ, ৩ মার্চ নথি তার শাখা থেকে সরিয়ে নেওয়ার পর মামলার তদন্ত তার শাখায় ছিল না। তাহলে ১৭ মে তাকে ওই অর্থ অপবাদ দেওয়ার ভিত্তি কী ছিল—তা এখনো স্পষ্ট নয়।

এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার করা জরুরি—ড. খাঁন মো. মীজানুল ইসলামের বিরুদ্ধে বর্তমানে ওই মামলার কোনো তদন্ত চলমান নেই। বরং তিনি পরিচালক (স্পেশাল তদন্ত) হিসেবে মামলাটি তদারকি করার পর নথি তার কাছ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয় এবং মামলার পরবর্তী কার্যক্রম অন্য শাখার অধীনে চলে যায়।

আরও বিস্ময়কর বিষয় হলো, মামলাটি মানিলন্ডারিং শাখায় তদন্তাধীন থাকা অবস্থাতেই সংশ্লিষ্ট আসামিপক্ষকে দায়মুক্তি দেওয়ার একটি গোপন চিঠি প্রায় এক বছর পর প্রকাশ্যে এসেছে।

অর্থাৎ প্রশ্নটি এখন ড. খাঁন মীজানুল ইসলামকে ঘিরে নয়; বরং প্রশ্ন হচ্ছে—তার তদারকিতে মামলা হওয়ার পর কেন নথি সরিয়ে নেওয়া হলো, তার পরবর্তী অনুসন্ধানে ৪০ কোটি টাকা ফ্রিজ হলো, এবং শেষ পর্যন্ত অন্য শাখায় তদন্তাধীন থাকা মামলায় কীভাবে দায়মুক্তি দেওয়া হলো?
মানিলন্ডারিং শাখার ডিজি মোকাম্মেল হোসেন-এর বক্তব্যের ভিডিওতে বিষয়টি তার নজরে আসার কথাও উল্লেখ রয়েছে। ফলে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে—তার নজরে থাকা একটি মামলায় তার স্বাক্ষর ছাড়া দায়মুক্তির চিঠি কীভাবে জারি হলো?

এক বছর পর গোপন চিঠিটি প্রকাশ্যে আসায় এখন নথির গতিপথ, অর্থ ফ্রিজের আদালতীয় নথি, অর্থ প্রদানের অপবাদের কারণ এবং দায়মুক্তির অনুমোদন প্রক্রিয়া—সবকিছুই নতুন করে যাচাইয়ের দাবি রাখে।

মামলা করার কারণে যিনি নথি হারিয়েছিলেন, তার তদারকিতে শুরু হওয়া অনুসন্ধানেই যখন বিপুল অর্থের সন্ধান ও ফ্রিজের ঘটনা ঘটেছে, তখন শেষ পর্যন্ত তদন্তাধীন মামলায় দায়মুক্তির সিদ্ধান্ত কীভাবে এলো—এই প্রশ্নের উত্তরই এখন সবচেয়ে জরুরি।
বিভাগীয় তদন্তে অবশ্য ড. খাঁন মীজানুল ইসলাম সেলিম নির্দোষ প্রমাণিত হন। কিন্তু তাকে সরিয়ে দেওয়ার নেপথ্যের আসল উদ্দেশ্য কী ছিল, এতদিনের ঘটনাপ্রবাহ ও প্রকাশ্যে আসা নথিপত্রের পর আজ তা অনেকটাই স্পষ্ট।