ব্রেকিং নিউজ :

কলারোয়ায় ফ্যামিলি কার্ড শুমারিতে নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন,সাবেক ছাত্রলীগ নেতা সুপারভাইজার, একই পরিবারের স্বামী-স্ত্রী ও ওফাপুর গ্রামের অধিকাংশই নিয়োগের তালিকায়


প্রকাশের সময় : অগাস্ট ১৩, ২০২৬, ১০:২৮ পূর্বাহ্ন | ১৪৯
কলারোয়ায় ফ্যামিলি কার্ড শুমারিতে নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন,সাবেক ছাত্রলীগ নেতা সুপারভাইজার, একই পরিবারের স্বামী-স্ত্রী ও ওফাপুর গ্রামের অধিকাংশই নিয়োগের তালিকায়

কলারোয়া প্রতিনিধি:
সাতক্ষীরার কলারোয়ায় ‘ফ্যামিলি কার্ড শুমারী-২০২৬’ কার্যক্রমে নিয়োগ নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। লাঙ্গলঝাড়া ইউনিয়নে সুপারভাইজার পদে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আহসান হাবীবের চূড়ান্ত নিয়োগ, জয়নগর ইউনিয়নে একই পরিবারের স্বামী-স্ত্রীর নিয়োগ এবং যুগিখালী ইউনিয়নে একজন বাদে অধিকাংশ নিয়োগপ্রাপ্তের বাড়ি একই গ্রাম, এমন তথ্য সামনে আসায় স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, লাঙ্গলঝাড়া ইউনিয়নের সুপারভাইজার পদে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত আহসান হাবীব অতীতে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন। ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাতক্ষীরা-১ আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থী ফিরোজ আহমেদ স্বপনের পক্ষে নির্বাচনী কার্যক্রমেও তিনি সক্রিয় ছিলেন বলে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে।

এছাড়া কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের আসনভিত্তিক সমন্বয়ক টিমের সদস্য হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করেছিলেন বলেও স্থানীয়দের দাবি। ৫ আগস্টের আগে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের নেতাদের সঙ্গে বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে তার উপস্থিতি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের বিভিন্ন কর্মসূচিতেও অংশগ্রহণের বিষয়টি স্থানীয় পর্যায়ে আলোচিত ছিল বলে কয়েকজন জানান। কলারোয়ায় আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডেও তাকে সক্রিয়ভাবে দেখা যেত বলে তাদের দাবি।

স্থানীয় পর্যায়ে আরও আলোচনা রয়েছে, সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা ও কলারোয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান লালটুর সঙ্গেও আহসান হাবীবের রাজনৈতিক যোগাযোগ ছিল। তবে এসব রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য জানা যায়নি।

এদিকে জয়নগর ইউনিয়নে একই পরিবারের স্বামী-স্ত্রী ‘ফ্যামিলি কার্ড শুমারী-২০২৬’ কার্যক্রমে নিয়োগ পাওয়ার বিষয়টিও স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্নের সৃষ্টি করেছে। নিয়োগের ক্ষেত্রে একই পরিবারের দুই সদস্য কীভাবে নির্বাচিত হলেন, তা নিয়েও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।

এ বিষয়ে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা নূরে আলম নাহিদের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘শতভাগ মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।’

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, নিয়োগের বাস্তব চিত্রে কর্মকর্তার এ বক্তব্যের সঙ্গে কিছু ক্ষেত্রে মিল পাওয়া যাচ্ছে না। তাদের দাবি, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় মেধার পাশাপাশি অন্য কোনো প্রভাব বা সুপারিশ কাজ করেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
যুগিখালী ইউনিয়নের নিয়োগ নিয়েও আলাদা করে প্রশ্ন উঠেছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, ওই ইউনিয়নে একজন তথ্য সংগ্রহকারী ছাড়া অধিকাংশ নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তির বাড়ি ওফাপুর গ্রামে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কামারালী এলাকা থেকে নাহিদ, পিতা আব্দুস সাত্তার সানা নামে একজন তথ্য সংগ্রহকারী হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। অন্যদিকে অধিকাংশ নিয়োগপ্রাপ্তের বাড়ি ওফাপুর গ্রামে। একই ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম থেকে প্রার্থী থাকা সত্ত্বেও একটি গ্রামের এত বেশি মানুষ কীভাবে নিয়োগ পেল, এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়দের কেউ কেউ অভিযোগ করছেন, বিশেষ ব্যক্তির সুপারিশে পছন্দের লোকজন নিয়োগ পেয়েছেন।
নিয়োগে শিক্ষাগত যোগ্যতা ও মেধার মূল্যায়ন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কয়েকজন প্রার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দা। তাদের অভিযোগ, কোনো কোনো ক্ষেত্রে এইচএসসি পাস প্রার্থী নিয়োগ পেলেও এমএ পাস প্রার্থীকে বাদ দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে যোগ্য প্রার্থীরা বাদ পড়েছেন, এমন অভিযোগও রয়েছে।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা নূরে আলম নাহিদ জানিয়েছেন, নিয়োগ শতভাগ মেধার ভিত্তিতেই হয়েছে।

সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমের মাঠপর্যায়ের বাস্তবায়নে নিয়োগ নিয়ে ওঠা এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বচ্ছ তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের স্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করেছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে নিয়োগপ্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক পরিচয়, আত্মীয়তা, সুপারিশ কিংবা এলাকার প্রভাব কোনো ভূমিকা রেখেছে কি না—তা নিরপেক্ষভাবে যাচাইয়েরও দাবি উঠেছে।