ব্রেকিং নিউজ :

ফ্যাটি লিভার: নীরব ঝুঁকি, সচেতনতাই সুরক্ষা


প্রকাশের সময় : অক্টোবর ১৪, ২০২৬, ৭:০২ পূর্বাহ্ন | ২৪৯
ফ্যাটি লিভার: নীরব ঝুঁকি, সচেতনতাই সুরক্ষা
🖼️ ফটো কার্ড তৈরি করুন

প্রতিবেদকঃ ডা. খালিদ সাইফুল্লাহ

অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব, অতিরিক্ত ওজন ও ডায়াবেটিসের কারণে বাড়ছে ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি। প্রাথমিক পর্যায়ে সাধারণত তেমন কোনো উপসর্গ না থাকায় অনেকেই এ সমস্যাকে গুরুত্ব দেন না। অথচ সময়মতো শনাক্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে কিছু ক্ষেত্রে ফ্যাটি লিভার থেকে লিভারে প্রদাহ, ফাইব্রোসিস এমনকি সিরোসিসের মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে।

লিভারের কোষে অতিরিক্ত চর্বি জমাকে ফ্যাটি লিভার বলা হয়। স্থূলতা, রক্তে ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা বৃদ্ধি, টাইপ-২ ডায়াবেটিস এবং অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এ সমস্যার অন্যতম ঝুঁকির কারণ। এ ছাড়া অতিরিক্ত অ্যালকোহল গ্রহণের কারণেও লিভারে চর্বি জমতে পারে।

**উপসর্গ না থাকলেও থাকতে পারে ঝুঁকি**

ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত অনেকেরই প্রাথমিক পর্যায়ে কোনো লক্ষণ থাকে না। কারও ক্ষেত্রে ক্লান্তি, দুর্বলতা কিংবা পেটের ডান দিকে ওপরের অংশে অস্বস্তি দেখা দিতে পারে। ফলে শুধু শারীরিক উপসর্গের ওপর নির্ভর করে এ রোগ শনাক্ত করা কঠিন। বিশেষ করে অতিরিক্ত ওজন, ডায়াবেটিস ও রক্তে চর্বির মাত্রা বেশি থাকা ব্যক্তিদের লিভারের স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন থাকা প্রয়োজন।

**রোগ শনাক্তে আল্ট্রাসনোগ্রাফির ভূমিকা**

ফ্যাটি লিভার শনাক্তে পেটের আল্ট্রাসনোগ্রাফি (USG) একটি বহুল ব্যবহৃত পরীক্ষা। এর মাধ্যমে লিভারে চর্বি জমার লক্ষণ শনাক্ত করা সম্ভব। তবে আল্ট্রাসনোগ্রাফি দিয়ে লিভারের ক্ষতির সম্পূর্ণ মাত্রা নির্ধারণ করা যায় না। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শে লিভার ফাংশন পরীক্ষা, রক্তের অন্যান্য পরীক্ষা এবং লিভারে ফাইব্রোসিসের ঝুঁকি মূল্যায়ন করতে হয়।

লিভার আল্ট্রাসনোগ্রামের মাধ্যমে জানতে পারেন আপনার লিভার অসুস্থ কিনা।

**জীবনযাপনে পরিবর্তনই প্রতিরোধের প্রধান উপায়**

ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি কমাতে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম ও ওজন নিয়ন্ত্রণ গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত চিনি, মিষ্টি পানীয়, পরিশোধিত শর্করা এবং উচ্চ ক্যালরিযুক্ত খাবার কমিয়ে সুষম খাবার গ্রহণ করা উচিত। পাশাপাশি নিয়মিত হাঁটা বা ব্যায়াম, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ এবং রক্তে চর্বির মাত্রা স্বাভাবিক রাখার বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে।

চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া লিভারের চর্বি কমানোর উদ্দেশ্যে ওষুধ বা ভেষজ উপাদান গ্রহণ করা উচিত নয়। ঝুঁকির কারণ থাকলে প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং উপযুক্ত পরীক্ষা করানো জরুরি।

**সচেতনতাই পারে লিভারের জটিলতা কমাতে।** ফ্যাটি লিভার মানেই গুরুতর লিভার রোগ নয়; তবে অবহেলা না করে সময়মতো ঝুঁকি মূল্যায়ন ও জীবনযাপনে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা গুরুত্বপূর্ণ। সুস্থ লিভার নিশ্চিত করতে সচেতনতার পাশাপাশি প্রয়োজন দায়িত্বশীল স্বাস্থ্যচর্চা।